আসল ভক্ত – নকল ভক্ত !

আষাঢ় মাস এসে পল্ল প্রায় এদিকে বিষ্টির দেখা নেই। আউট্রাম ঘাটে বসে এট্টু হাওয়া খাচ্চি এমনি সময় মাথার ভেতর তূর্যম সম্পাদকের ফোন “খাচ্চেন দাচ্চেন ভালই আচেন। বলি লেকাটেকা সব তুলে দিলেন নাকি? যেই বলেচি লোকে আপনার নকশা খুব পড়চে অমনই তেল হয়েচে, নয়?”
থতমত খেয়ে ভাবলেম সত্যই কি তেল হয়েচে? পেটে হাত বুলিয়ে দেকলেম ভুঁড়িটা য্যান বেড়েচে বলেই মনে হচ্চে। তা আমতা আমতা করে বল্লেম “মানে খুব গরম কিনা। পথেঘাটে লোক নেই। লিখব কী নিয়ে?”
সম্পাদক দাবড়ে দিলে “কিচু খেয়াল কচ্চেন না। আজ লোকে খেলা দেখতে ব্যস্ত। একটু ঘরেদোরে উঁকিঝুঁকি মারুন। লোকও পাবেন, লেকার বিষয়ও পাবেন।”
কী খেলা, কী বেত্তান্ত সেসব কিচু না বলেই কতা শেষ করে দিলে। বুঝলেম বেজায় চটেচে। তাই গা ঝাড়া দিয়ে উঠে পল্লেম। কোথায় যাই? সম্পাদক তো লোকের ঘরেদোরে উঁকি মাত্তে বল্লে। এই ভরদুপুরে কার ঘরে কী লীলেখেলা চলচে তাই নিয়ে লিকতে বলচে শেষে? নাতিরও নাতির বয়সী ছেলের আস্পদ্দা দ্যাকো! অবিশ্যি ডেঁপোমি ছাড়া সম্পাদক হয় না। আমার তত্ত্ববোধিনীর সময় আমি এই ছোঁড়ার চেয়েও খোকা ছিলেম। মেনে নেয়াই কর্তব্য।
পা চালিয়ে ধর্মতলা পৌঁছেচি, দেখি একখানা দোকানের সামনে আর হাঁটাচলার জায়গা নেই। ভাবলেম হ্যাঙ্গাম কিচু হচ্চে বুঝি। কাচে গিয়ে দেকতে হয় ব্যাপারখানা কি। হ্যাঙ্গাম মানেই মুখরোচক। পাঠক গপগপিয়ে খাবেন।
এগিয়ে দেকি কোতায় হ্যাঙ্গাম! সব য্যান শ্মশানে এসেচে। শুকনো মুখ করে একখানা টিভির দিকে তাকিয়ে আচে। তাতে কি একটা দৌড়াদৌড়ি চলচে। ভাবচি দেহ ধারণ করে কাউকে শুধোব কিনা ব্যাপারখানা, এমনি সময় খেয়াল হল টিভির ঠিক সামনেটায় দাঁড়িয়ে আমাদের ভানু খুব হাততালি দিচ্চে আর মনের সুখে বাঙাল ভাষায় কিসব বলেই চলেচে। বোঝো কান্ড! আমার সঙ্গেই মর্ত্যে এসেচিল, বলতে কি ও-ই আমায় উসকে এনেচিল। তারপর কোতায় যে হাওয়া হয়েচিল কে জানে! কিন্তু এত লোকের ভেতর বাবু দেহধারণ করে ফুর্তি কচ্চেন কোন আক্কেলে! আমি এগিয়ে গিয়ে ঠিক পেছনটায় দাঁড়িয়েচি, এমন সময় কি যে হল টিভির ভেতর, ভানু চিৎকার কল্লে “আরে শালার পো, এইসময় এই শটটা মারলি? ঘিলুগুলা সব গোবর হয়া গ্যাসে গিয়া।”
অমনই ভানুর পাশে দাঁড়ানো ঢ্যাঙা লোকটা ধমকে উঠলে “কেন দাদা? আপনার কি অসুবিধা হচ্ছে? আপনি চাইছেনটা কি?”
ভানু কটমট করে তাকাতেই আরেকটি কে বললে “দাদা মনে হচ্ছে বর্ডার ক্রস করা মাল। কত দিয়ে রেশন কার্ড করিয়েছেন, দাদা?”
কে আবার ফুট কাটলে “এরাই শেষ করে দিল দেশটাকে। শালার দেশের লোক খেতে পাচ্ছে না, এরা উড়ে এসে জুড়ে বসছে।”
ভানুর মুখ দেকে বুঝলেম কড়া জবাব দেবে এইবার। তবে তার আগেই আরেকটি ভদ্দরলোক বললে “আবার চালাকি দেখুন। দাড়িটাড়ি কামিয়ে ধুতি, পাঞ্জাবি পরে হিন্দু সেজেছে।”
আর যায় কোতা, ভানু রুখে উটলে “দাদা কি কেরেস্তান নাকি? পেন্টুলুন পইরা বাইর হইসেন?”
সে লোক মহা রেগে “আমি হিন্দুর ছেলে” বলতেই ভানুও বললে “আমিও হিন্দুর পোলা। আপনারে সার্টিফিকেট দ্যাখাইতে লাগব নাকি? আপনে কেডা? রাষ্ট্রপতি?”
এমনি সময় একটা লোক, ঠাহর হয় দোকানদার, বললে “ঠিক হ্যায়, ঠিক হ্যায়। লেকিন আপ বাংলাদেশ কো সাপোর্ট কিঁউ কর রহে হ্যাঁয়।”
ভানু মুখ ভেংচে উত্তর কল্লে “হামারা ইচ্ছা হায়। আপকো কেয়া অসুবিধা হায়? ইয়ে লড়কালোগ সব বাংলা মে বাত করতা হায়। হামারা ঘর উহাঁ পে থা। ঘর তো চলা গিয়া, মায়া নেহি গিয়া। ইস লিয়ে সাপোর্ট করেগা। আপ কেয়া করেগা?”
সে ব্যাটা মুখ লাল করে কিচু বলার আগেই কে হুঙ্কার দিলে “আরে জালি রেশন কার্ড মাল রে। এটাকে মেরে বার কর তো। এ শালা শান্তিতে খেলাটাও দেখতে দেবে না।”
ব্যাটারা আস্তিন গুটিয়ে তৈরি হচ্চিল। গালিগালাজ শুরু। ভানুও পিছু হটার পাত্তর নয় কিন্তু আমি দেকলেম ওদের সামনে রোগাপটকা ভানু টিকবে না। তাই তাকে ছুঁয়ে দিয়ে দিলেম হাওয়া করে। তাই দেকে দোকানে কতজনে মুচ্ছো গেলে সে রঙ্গ দেকার চেষ্টাও না করে ওর ঘাড়টি ধরে নিয়ে উড়ে গিয়ে বসলেম আকাশবাণী ভবনের ছাদে। সে তখনো তেড়ে “শালার ব্যাটা শালা” বলে চলেচে। গঙ্গার হাওয়া খেয়ে মাথাটা একটু ঠান্ডা হলে শুধোলেম “ব্যাপারখানা কী ভায়া? বেশ ছিলেম নরকে। তুমি উসকে নিয়ে এলে। তাপ্পর নিজেই হাওয়া?”
“আর কইয়েন না, দাদু। ভাবসিলাম বাইচা থাকতে তো হয় নাই, এহন একটু দ্যাশটা ঘুইরা দেখি। তা দ্যাশ আর আছে কোতায়? সবটাই তো দেশপ্রেম হয়া গ্যাসে। কলেজে পড়তে বইতে ল্যাখা আছিল ‘বৈসিত্রের মইধ্যে একতার দৃষ্টান্তস্বরূপ দ্যাশ ভারতবর্ষ। ও মা! কোথায় বৈসিত্র? এরা কেবল দুইরকম রাখসে — দেশপ্রেমিক আর এন্টি ন্যাশানাল। কারো অপসন্দের কথা কইলেই আপনারে এন্টি ন্যাশানাল কইয়া দিব। তারপর সুবিধামত পাইলেই গণপিটানি।”
“তা এত্তো জেনেশুনে তুমি দেহ ধারণ করে অত লোকের সাথে তক্কো কচ্চিলে কোন আক্কেলে? পিটুনির চোটে অক্কা পেলে তো আর নরকে ঢুকতে পেতে না। পেরেত হয়ে এদিকওদিক ঘুরে বেড়াতে হত। তা বাদে তোমায় চিনে ফেল্লেও তো গোল বাধত।”
ভানু একহাত জিভ কেটে একগাল হেসে বললে “দাদু একদম বুড়া হইয়া রইসেন। এরা সব হিন্দি সিনেমা মার্কা বাংলা সিনেমা দেখা বাঙালি। দেবরে ভাবে মহানায়ক। এরা আমারে চিনব কী কইরা? তবে দেহ ধারণটা উচিৎ হয় নাই ঠিকই কইসেন। একটু বেশি লোভী হইয়া পড়সিলাম আর কি। দেহ থাকলে মালপোয়া টালপোয়া খাওন যায়। আর খেলা দ্যাখনের সময় একটু চেঁচামেচি না কল্লে ঠিক গা গরম হয় না, বুঝলেন না? তাও অন্য রাজ্যগুলায় এসব করি নাই। ভাবসিলাম বাংলা তো, কী য্যান কয়, একটু প্রোগ্রেসিভ। এইখানে দাঁড়াইয়া বাংলাদেশেরে সাপোর্ট করলে কেউ কিছু কইব না। কিন্তু বাঙালিগুলাও দ্যাখতাসি গ্যাসে গিয়া।”
“ওখানে কী হচ্চিল বল তো? সকলে কী রঙ্গ দেকচিল হাঁ করে?”
“এ রাম! আপনি এইটা বোঝেন নাই? আরে ওটা একখান খেলা। ক্রিকেট খেলা। সাহেবরা আমগো শিখাইসিল, এহন আর হারাইতে পারে না। তবে ওটাও আর খেলা নাই, দেশপ্রেম হইয়া গ্যাসে। দ্যাখলেন না অন্য দেশেরে সাপোর্ট করতাসিলাম বইলা কিরম খুনে মেজাজ বাবুদের? মনে হয় য্যান যুদ্ধ করতে নামসে। হাতে আসল বন্দুক দিলে কিন্তু নিমুনিয়া রুগীর মতন কাঁপব।”
বুঝলেম তূর্যম সম্পাদক আমায় কোন খেলার কতা বলেচিল। ভানু শুনে বললে “ধুর! পোলাপান। ভাল কইরা বোঝে নাই। আইজ আর দ্যাখসেন কী? আইজ যদি ইন্ডিয়া জিতা যায় তাইলে মজা দ্যাখবেন আগামী রোববার।”
“কেন? সেদিন কী?”
“ফাইনাল। ভারত বনাম পাকিস্তান। গরম দুধের মতন দেশপ্রেম চলকাইয়া পড়ব সেইদিন। আপনি সম্পাদকেরে জানায়ে দ্যান আপনার ল্যাখা রবিবারের পরে হইব।”
ভানুকে দিয়ে কড়ার করিয়ে নিলেম সে এই কদিন কোতাও নড়বে না। সে বললে তার দেশ ঘোরার শখ মিটেচে, এখন নরকে ফিরতে পাল্লেই বাঁচে।
কদিনে সে আমায় ক্রিকেট খেলার নিয়মকানুন শেকালে। ককন লোকে উল্লাস করে, ককন গালি দেয় সে-ও শেকালে। ফাইনালের দিন তাতে আমাতে টো টো করে ঘুল্লেম। পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, আমার চাপাচাপিতে ভানু ব্যাজার মুখ করে গোটা দেশটাই ঘুরিয়ে দেকালে। দেকলেম সর্বত্রই দেশপ্রেমপুজো হচ্চে। দেশপ্রেম বড় কাঁচাখেগো দেবী, নানা রূপে ভক্তের কাচে ধরা দেন। খেলা খতম হয়েচে কবে, দেবীর লীলে একনো চলেচে। ভক্তদেরও নানা রূপ। যতগুলি চোকে পড়েচে, আমার খাতায় লিকে রেখেচিলেম। তূর্যমের পাঠকদের জন্যে টুকে দিলেম। ভানু বুঝিয়েসুজিয়ে না দিলে অবশ্যি এ আমার পক্ষে সম্ভবে না।
খেলোয়াড় ভক্ত: একদা ব্যাট বল নিয়ে দেশের দলের পোশাক গায়ে খেলেচেন। কিন্তু পোশাকটাকে সেনাবাহিনীর পোশাক বলে ভুল করেচেন। ভেবেচেন ব্যাটও যা, বন্দুকও তাই। বলও যা, বোমাও তাই। অতএব একন কতায়, লেকায় এমন আগুন ছড়াচ্চেন য্যান একখানা চার মাল্লে চাট্টে পাক সৈনিক অক্কা পাচ্চে।
অকম্মা তারকা ভক্ত: একদা গানটা দিব্য গাইতেন কি অভিনয়টা মন্দ কত্তেন না, একন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলে কেউ দুটো কুশল জিজ্ঞেস করেন না। ইনি যত অভিশাপ সব জমিয়ে রাকেন পাকিস্তান আর মোছলমানদের দেবেন বলে। পাল্লে পেটোর মত এটম বোমা ছোঁড়েন। অবশ্যি শিবসৈনিকরা এট্টু চোখ রাঙালে কাপড় নষ্ট করেন।
ফটোশপ ভক্ত: বাপ-মায়ের ইচ্ছে ছিল ইনি শিক্ষিত হবেন। আর কিচু না হোক, ফটোশপ নামক বিলিতি শিক্ষা এনার যথেষ্ট হয়েচে। কোন শত্তুরের এ না মেনে উপায় নেই। বাংলাদেশের রাস্তাকে কলকেতার রাস্তা কত্তে, মীরাটকে মুর্শিদাবাদ করে হ্যাঙ্গাম বাধাতে এনার জুড়ি নেই। ক্রিকেট কত্তারা এনাকে দিয়ে স্কোরবোর্ডটির ব্যবস্থা করাতে পাল্লে ভারত কোন খেলায় হারে না।
ক্রিকেটবিজ্ঞ সোশাল মিডিয়া ভক্ত: ফটোশপভক্তের লীলেসঙ্গী/সঙ্গিনী। খেলার আগে ভারতকে অপর দলের বাপ, দাদা ইত্যাদি ঘোষণা করেন। জিতলে ফেসবুকে খেলোয়াড়দের পরমবীরচক্র দেন, টুইটারে হারা দলের দেশের মহিলাদের ধর্ষণচিন্তা করে অপূর্ব বীরত্ব অনুভব করেন। হারলে ফিক্সিং রহস্য উদঘাটন করেন। এবার হারে বড় আতান্তরে পড়েচেন। ভারতীয় দলে মোছলমান খেলোয়াড় না থাকায় বিশ্বাসঘাতক খুঁজে পাননি।
গোরক্ষক ভক্ত: উপরের ভক্তরা চুনোপুঁটি, ইনি রাঘব বোয়াল। উপরোক্তরা ক্রিকেট খেলা থাকলে ভক্তির চরমে ওটেন, ইনি কিন্তু বারোমাসের ভক্ত। এনার দেশমাতা মানেই গোমাতা। ইনি বড় নিষ্ঠের সঙ্গে বলির মানুষ খোঁজেন। মোছলমান দেকলে হল। গোমাংস খান আর না-ই খান, ইনি একামতন পেলেই ‘আপনার কাচে আচে’ বলে দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। মায়ের জন্যে রক্ত আদায় করেই ছাড়বেন। মা বলি চান কি বিচালি চান সেসব এনার বিবেচ্য নয়।
ছদ্মসাংবাদিক ভক্ত: প্রধানত টিভিতে (মধ্যে মধ্যে কাগজে) খবর দেবার নাম করে যাকে ইচ্ছে এন্টি ন্যাশানাল বলেন ও গাল দেন। ককনো ইনি বিচারপতি, ককনো কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়চেন, ককনো আবার হগ সায়েবের বাজার থেকে সিনেমার সৈনিকের পোশাক কিনে সৈনিক সাজচেন। সাজ নইলে ভাব আসে না। সন্দ হয় গিন্নীর কাচে যাবার আগে বুঝি বা মাথে ময়ূরপুচ্ছ আর হাতে মুরলী নে যান। ফটোশপ, টুইটার আর ফেসবুক এনার কাচে বেদবাক্য। কিচুদিন হল অন্য ভক্তদেরও সাংবাদিক বলে চালিয়ে দিচ্চেন। ধনী বাবু যোগাড় করে সক্কলের মাইনের ব্যবস্থাও করেচেন।
প্রাক্তন সৈনিক ভক্ত: এ ভক্তের জন্যে আপনার পরাণ যদি না কাঁদে তবে আপনি বড় পাষাণ। সেক্ষপিয়ার সায়েব লিকেচিলেন এই দুনিয়া এক রঙ্গমঞ্চ। এই ভক্ত অনেকদিন সেনাবাহিনীতে থেকে বুঝেচেন এই দুনিয়া এক যুদ্ধক্ষেত্তর। তাই অবসরের পরে হাওয়া ঠান্ডা থাকলেও টিভিতে যুদ্ধু যুদ্ধু করে চেঁচিয়ে গরম কত্তেই হবে। ভানু বলচিল সরকার নাকি এনাকে ও আর ও পি না কি দেবেন বলেচিলেন। তা ঠিকঠাক দিলেন না বটে কিন্তু ছদ্মসাংবাদিক ভক্তের হাত দিয়ে নামযশ পাইয়ে দিচ্চেন। কোন প্রাক্তন সৈনিক এনার উল্টো মত দিয়েচেন কি মরেচেন। সব ভক্ত একত্তর হয়ে তেনার চোদ্দপুরুষ উদ্ধার করে দেবেন। পাকিস্তানী চর বলে দেওয়াও বিচিত্র নয়।
সুন্দরী মোছলমান মহিলা ভক্ত: ইনি বড় রসিক ভক্ত। শ্রুতিমধুর উর্দু নাম ধারণ করেন, গুগলসাহেবের থেকে রমণীয় একখানা মুখ ধার করেন যাতে এনাকে নিঃসন্দেহে মোছলমান বলে চেনা যায়। তাপ্পর ইন্টারনেটে দুনিয়া কাঁপিয়ে লিকতে শুরু করেন মোছলমানগুলিকে নিকেশ কত্তে পাল্লে তবেই দেশের উন্নতি। অধুনা এই ভক্ত বড় কষ্টে আচেন। প্রতীক সিনহা নামে এক এন্টি ন্যাশানাল এদের নাহক বিপদে ফেলচেন।
‘আমিই আসল’ ভক্ত: ইনি নেতা বা নেত্রী। অন্য ভক্তদের তেড়ে গাল পাড়েন, দেশের সব্বোনাশ কচ্চে বলেন। কিন্তু প্রতিবাদে গোমাংস খাওয়া হলে বলেন নিজের ঘরে চুপিচুপি খাওয়া উচিৎ, দেকিয়ে খেলে কেউ যদি দুঃখু পায়? ভক্তশ্রেষ্ঠরা অস্তরশস্তর নিয়ে রামনবমী কল্লে চোখ রাঙান, তাপ্পর বজরংবলী পুজো করেন, মন্দিরে গিয়ে “আমিই আসল হিঁদু” বলে হুঙ্কার দেন। জঙ্গী ভক্তরা অস্তরশিক্ষা দিলে “দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা কচ্চে” বলে বাড়ি মাতায় করেন কিন্তু একটিকেও গেরেফতার করেন না।
সিংহহৃদয় অনাবাসী ভক্ত: এনার চেয়ে দেশপ্রেমের ঠাকুরের বড় ভক্ত নেই। ঠাকুরের প্রধান পান্ডা যখন যে দেশেই যান, ইনি বাচ্চাকাচ্চাসমেত তেনার সংকীত্তন সভায় পৌঁচে যাবেনই। কাশ্মীর, জেএনইউ, অরুন্ধতী রায়, এনডিটিভি, কংগ্রেস, ইয়েচুরি — এদের টাইট দেয়ার সব পথ ইনি জানেন কিন্তু দেশে এসে কাজে হাত লাগাবেন না। তবে ফেসবুকে অহোরাত্র দেশে বাস করা আত্মীয়, বয়স্যদের জাতীয়তাবাদী হওয়ার শিক্ষে দেন। এনার বুকের খাঁচাটি বড়। অন্য দেশের মোছলমানের প্রতি রাগ নেই, যত রাগ এদেশের মোছলমানের ওপর। অধুনা নাকি এট্টু ফাঁপরে পড়েচেন ট্রাম্প বলে কে একজন তার দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারে বলে।
তালিকাখানায় চোক বুলিয়ে নিয়ে ভানু কার উদ্দেশে য্যান পেন্নাম ঠুকে বললে “মা, ভক্তদের হাত থেকে রক্ষে কোর, মা।”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s