তিন তালাকের কিসসা কিংবা কিসসার তিন তালাক

শামিম আহমেদ

১৯৮৩ সালে শেখ শেহনাজ সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা করেন। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন মুসলমান নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে, এই ছিল তাঁর অভিযোগ। তাঁর স্বামী  মধ্যরাতে তাঁকে তিন বার তালাক উচ্চারণ করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। একটি কাজ যোগাড় করে শেহনাজ পেয়িং গেস্ট হিসেবে একটি বাড়িতে থাকতেন। শেহনাজের প্রাক্তন স্বামী একদিন তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, “তোমার এই সব বেয়াদপি করা চলবে না (চাকরি ও পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকা হল বেয়াদপি) কারণ তুমি আমার স্ত্রী। আমি বিবাহিত জীবনের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছি।’’ শেহনাজ পাঁচ জন কাজির দ্বারস্থ হলে তাঁরা নানা রকমের মত দেন। অগত্যা শেহনাজ সর্বোচ্চ আদালতের কাছে জানতে চান, তিনি কি বিবাহিতা না বিবাহ-বিচ্ছিন্না? শেহনাজের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে মুসলমান সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ তাঁকে বলেন, “এই ভাবে কউমের কথা পাবলিক না করলেই কি চলত না?’’ তার পর চলে দীর্ঘ লড়াই, যার মীমাংসা আজও হয়নিঅনেক হুমকি, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শেহনাজ সেই লড়াই আজও চালিয়ে যাচ্ছেনএই দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে নীরজা ভানোট সাহসিকতা পুরস্কার পেয়েছেন।

 

ভারতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য বিভিন্ন রকমের ব্যক্তিগত/দেওয়ানি বিধি আছে। সেই দেওয়ানি বিধির খেলাপ করা হলে বা অপপ্রয়োগ হলে আদালত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং আদালতের রায়কে মেনে নেওয়াই ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভারতের নাগরিকের কর্তব্য।

শেহনাজদের লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে দুটি উগ্র দল যে ভাবে বাজার গরম করে চলেছে, তা দেখে বেশ আশ্চর্য লাগছে। কয়েক দিন আগে বিজেপি সাংসদ ‘দ্রৌপদী’ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়সহ দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়েরা মুসলমান-নারীর তালাক যন্ত্রণায় কাতর হয়ে যে ভাবে পথে নেমেছেন, তা এক কথায় মেরুকরণ ও ভোটের রাজনীতির নির্লজ্জ উদাহরণ। তিন-তালাক প্রথা অবলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা জুড়ে দিচ্ছেন সারা দেশ জুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার স্লোগান। কেউ কি অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কোনও ব্লু প্রিন্ট চোখে দেখেছেন? রূপারা যে দায়ভাগ নামক ব্যক্তিগত আইন মানেন তা কি বাংলা ও অসমের বাইরের ভারতে চালু করতে পারবেন যেখানে চলে মিতাক্ষরার চারটি মজহাবের নানা রকম ব্যক্তিগত কানুন? আসলে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ নামক একটি জুজুলাঠি বিজেপি ও তার সমমনস্ক দলগুলি মুসলমানদের দিকে মাঝেমধ্যেই তুলে ধরে, যেন মুসলমানদের ব্যক্তিগত আইনই একমাত্র নারীবিরোধী! ভারতে যত ধর্ম আছে, সব ধর্মের ব্যক্তিগত আইনে আছে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক বিধি ও নিষেধ। এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির জটিলতায় গিয়ে ‘তিন তালাক’ বন্ধ করার আন্দোলনকে অন্য মুখে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। করা হচ্ছে রাজনীতি আর ভোটের সমীকরণ।

মুসলমানদের ‘বিজেপি অংশ’ বলছে, তিন-তালাক যুগ-যুগ ধরে চলে আসা একটি নিয়ম এবং তা তাঁদের ধর্মীয় অধিকার (পড়ুন, পুরুষের ধর্মীয় অধিকার)। রূপা-লকেট ও সংঘের ভাড়া করা কয়েকজন মুসলমান ধান্দাজীবীর মায়াকান্নার পরের দিন কলকাতার পার্ক সার্কাসে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড-এর তিন দিন ধরে চলা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে সর্বসম্মতিক্রমে তিন-তালাকের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ঠিক হল, সরকার যদি তিন-তালাক বন্ধ করতে চায়, সর্বশক্তি দিয়ে তা রোখা হবে। তিন তালাকের পক্ষের যুক্তি, এ হল যুগ-যুগ ধরে চলে আসা ‘নিয়ম’। জানা গিয়েছে, সুলতান আহমেদরা ১০ কোটি মুসলমান নারীর স্বাক্ষর যোগাড় করে নারীবিরোধী তালাকের পক্ষে আন্দোলনে নামবেন। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড-এর সভাপতি মৌলানা রাবে হাসানি নদভি বলেছেন, সরকার তালাকের নামে মুসমানদের অপমান করছেন; মুসলমানরা ধর্মনিরেপেক্ষ গণতান্ত্রিক, প্রজাতান্ত্রিক ভারতের নাগরিক, তাঁরা তা সহ্য করবেন না।

প্রশ্নটা এখানেই জনাব নদভি সাহেব! যুগ-যুগ ধরে চলে আসা সহমরণ-প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, অমানবিক বলেই। বাংলাদেশ সমেত ২২টি দেশ, পৃথিবীর সমস্ত শিয়া ও সুন্নিদের হান্বালি মজহাব তিন-তালাক ‘ব্যান’ করেছে, তা নারীবিরোধী ও ধর্মবিরোধী বলে। শেহনাজদের সমস্যা কাজি দিয়ে মিটবে না, নেটা উচিতও নয়। উচিত হলে সমান্তরাল বিচারব্যবস্থা কায়েম করতে হয়, যা মৌলানা নদভির “ধর্মনিরেপেক্ষ গণতান্ত্রিক, প্রজাতান্ত্রিক ভারতের” পরিপন্থী। অন্যান্য সব বিষয়ের মতো ব্যক্তিগত আইনের জটিলতায় দেশের আদালত শেষ কথা বলুক।

 

মাঝেমধ্যে খবরের কাগজে দেখা যায়, মুসলমান পুরুষ তাঁর স্ত্রীকে এসএমএস, ক্যুরিয়ারে তালাক দিচ্ছেন। নেশার ঘোরে ‘তিন তালাক’ উচ্চারণ করে ঘোর বিপদে পড়েছিলেন এক ভদ্রলোক। কিন্তু একজন মহিলা চাইলেই তাঁর স্বামীকে তালাক দিতে পারেন না। বিচ্ছেদের জন্য তাঁর স্বামীর সম্মতির প্রয়োজন।

এমন তালাক নিয়ে ভারতীয় মুসলিম সমাজে যে আলাপ-আলোচনা ও তর্ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা হয়ে ওঠেনি। এর পেছনে নানাবিধ কারণ ছিল এবং এখনও আছে। ১৯৯৫ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড যে ‘নিকাহনামা’ প্রণয়ন করে সেখানেও এ নিয়ে স্পষ্টতা ছিল না। ২০০৮ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম উম্যান পার্সোনাল ল বোর্ডএকটি ‘নিকাহনামা’ তৈরি করেছিল, যা অনেকাংশে শরিয়ত ও যুক্তিসম্মত ছিল। কিন্তু সেই নিকাহনামাকে শরিয়তবিরুদ্ধ বলে বাতিল করে দিয়েছিল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। কী ছিল  উম্যান পার্সোনাল ল বোর্ডের নিকাহনামায়? সেখানে নারী ও পুরুষ উভয়ের তালাক দেওয়ার অধিকার আছে বলা হয়েছিল। এস এম এস, টেলিফোন, বা ভিডিয়ো কনফারেন্সে তালাক দেওয়া নিষিদ্ধ। পুরুষের ‘হঠাৎ-তালাক’ দেওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল এই নতুন নিকাহনামা।

কিন্তু কয়েকজন মহিলা জোট বেঁধে এ রকম একটা আস্ত নিকাহনামা তৈরি করে ফেললে পুরুষতান্ত্রিকতায় একটু বেশি আঘাত লাগে, আর তাই অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড একে অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় বলে বাতিল করে দেয়চলতে থাকে পুরনো নিকাহনামার নিয়মকানুন।

১৯৮৬ সালে শাহ বানু মামলার পর নিকাহনামা—তালাক, খোরপোষ নিয়ে নানা তর্ক উঠে এসেছে কিন্তু হঠাৎ-তালাক বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে ধর্মীয় কারণ যতটা না আছে, তার চেয়ে বেশি আছে রাজনৈতিক কারণ। এখন অমুসলিম মাত্রেই জানেন, ভারতীয় সুন্নি (শিয়ারা নন) মুসলমান ইচ্ছে করলেই স্ত্রীকে তিন বার তালাক উচ্চারণ করে শুনিয়ে দিলেই বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়ে যায়। শিয়ারা মনে করেন, তিন বার তালাক উচ্চারণ করে যে বিচ্ছেদ তা একেবারেই অবৈধ এবং শরিয়ত-বিরুদ্ধ। সুন্নিদের যে চারটি মজহব (school) আছে তাদের তিনটি—হানাফি, মালেকি ও শাফেয়ি এমন ‘তিন-তালাক’-এ বিশ্বাসী। কিন্তু চতুর্থ সুন্নি মজহাব—হানবালিরা মনে করেন, এমন তাৎক্ষণিক-তালাক দেওয়া পাপকাজ এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়। তুরস্ক, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, ইরাক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ প্রভৃতি ২২টি দেশে এমন বিচ্ছেদ বেআইনি, মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের পরিপন্থী। কিন্তু আজও ভারতে তা চলছে। পার্সোনাল ল বোর্ডের যে নিকাহনামা এখন এ দেশে চলে তাতে অবশ্য তিন-তালাককে উৎসাহ দেওয়া হয়নি, কিন্তু মেনে নেওয়া হয়েছে। বিচ্ছেদের পরে খোরপোষ নিয়েও সেখানে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে যা পুরুষের পক্ষে যায়, অথচ বাংলাদেশের মত দেশে এমন নারীবিরোধী তালাক-খোরপোষের আইন নেই। ভারতীয় মুসলমানের বিবাহ-বিচ্ছেদ আইনে পুরুষের স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

মুসলিম ব্যক্তিগত আইন তৈরি হয়েছে কোরান ও হাদিসের ভিত্তিতে। কী আছে সেখানে? সুরা তালাকের ১ ও ২ নম্বর আয়াতে আছেঃ

“হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদের তালাক দিও ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো। তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন।

অতঃপর তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছয়, তখন তাদের যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে।…’’ (৬৫:১-২)

কোরান অনুযায়ী, তালাক তিনটি পর্যায়ে হবে। কোরান ও হাদিসে এ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। বৈধ বিষয়ের মধ্যে তালাক হল সবচেয়ে নিকৃষ্ট জিনিস, তালাক উচ্চারণ করলে আল্লাহের আসন কেঁপে ওঠে।

তালাকের এক-একটি পর্যায় অন্তত ১৫ দিনের হবে। সর্বোত্তম তালাক হল তালাক-এ-আহসান। সেখানে এক তালাক দিয়ে এক ‘তুহুর’ অর্থাৎ কমপক্ষে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। ইদ্দত (অপেক্ষাকাল) পূর্ণ হলে আবার বাকি দুই তালাক। এই ভাবে তিন-তুহুর পার হলে বিচ্ছেদ কার্যকরী হবে। পরে ইচ্ছে করলে স্ত্রী বা পুরুষ অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন কিংবা নিজেরা পুনর্বিবাহ করতে পারে্ন।   

দ্বিতীয় তালাক হল তালাক-এ-হাসান বা উত্তম বিচ্ছেদ। এক্ষেত্রে প্রত্যেকতুহুরেএক বার বিচ্ছেদ হবে এই ভাবে তিন তুহুরে তিন তালাক দিয়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ হতে পারে। এমন বিচ্ছেদে স্ত্রী স্বামীর জন্য অবৈধ হয়ে যাবেওই স্ত্রী পূর্বতন স্বামীকে পুনর্বিবাহ করতে পারবে না। ওই মহিলাকে অন্য পুরুষের সঙ্গে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এই স্বামী যদি মারা যান বা স্ত্রীকে তালাক দেন, তবে ওই মহিলা প্রাক্তন স্বামীকে বিবাহ করতে পারেন।

তৃতীয় প্রকার বিচ্ছেদ হল বিদায়াত তালাকএক সঙ্গে তিন বার তালাক বলে বিচ্ছেদ ঘটানো। এক্ষেত্রে তালাকদাতা অবশ্যই পাপ করছে বলে ইসলামী আইন মনে করে। এই তালাকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ভারতীয় মুসলিম মহিলাদের একটি অংশতাঁরা সেই মর্মে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছেন। ওই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের মত জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কোর্টের সমন পাওয়ার পর কেন্দ্র বিভিন্ন মহলের মত জানতে চেয়েছে। সেই মর্মে জাতীয় আইন কমিশন তাদের কাজ শুরু করেছে। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড শুরু থেকেই তিন-তালাকের পক্ষে লড়ে যাচ্ছে ল বোর্ডের অন্যতম শীর্ষ কর্তা সুলতান আহমেদ প্রথম থেকেই সরব। এ বার তৃণমূলের তিন মন্ত্রী জমিয়তের মঞ্চ ব্যবহার করে তিন-তালাক রদের বিরোধিতায় নেমে পড়েছেন। ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে ল বোর্ডের বার্ষিক সম্মেলন ছিল, যা হল কলকাতাতেই। পার্সোনাল ল বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সকলের জানা। এক দল ধার্মিক আবার বলতে চাইছেন, তিন-তালাক রদের মধ্য দিয়ে আসলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কায়েম করতে চলেছে মোদী সরকার। কিন্তু এই দুটোকে গুলিয়ে ফেলার কোনও মানে হয় না। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়ন করা এ দেশে সত্যিই অসম্ভব। যে দেশের শাসকরা অভিন্ন ফৌজদারী বিধি চালু করতে পারেননি, তাঁদের কাছ থেকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রত্যাশা করাটা প্রায় আকাশকুসুম। কলকাতায়, দিল্লিতে মদ কিনতে গেলে বয়সের ফারাক, বিহারে মদ খেলে জেল, কলকাতায় গরুর মাংস বিক্রি করা যায়, দিল্লি বা নয়ডায়? এমনতরো একগাদা উদাহারণ দেওয়া যায়। এ বার দেখুন, আপনি হিন্দু, কী হবে আপনার পারিবারিক আইন? মিতাক্ষরা না দায়ভাগ? দায়ভাগ চালু আছে বাংলা আর অসমের একটি অংশে। বাকি ভারত মিতাক্ষরা তার আবার চারটি মজহব—দ্রাবিড়, বারাণসী, মহারাষ্ট্র, মিথিলা। আট রকমের বিবাহ আছে, কন্যাদের উত্তরাধিকার নিয়ে আছে নানা মত। মুসলমানদের শিয়া-সুন্নি আলাদা ব্যক্তিগত আইন। সুন্নিদের চার গোষ্ঠী। এর পর আছে খ্রিস্টান, জরাথ্রুষ্টবাদী, আদিবাসীদের নানা পারিবারিক আইন। সুতরাং অমূলক আশঙ্কায় না ভুগে মুসলমান মেয়েদের পাশে দাঁড়ান। আপনার মেয়েকে বা বোনকে তাঁর স্বামী ৩০ সেকেন্ডে তিন বার তালাক বলে দিলে বিচ্ছেদ হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? এমন ঘটনা ঘটে না বলে যাঁরা সরব হয়েছেন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বলি, এমন তো ঘটার কথা নয়, আর সেই অস্বাভাবিক ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্যই আইন, ব্যক্তিগত আইন। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এই কাজটি নিজেরা করলে সবচেয়ে ভাল হয়।

 

Prof Shamim Ahmed is a Presidency college scholar. He teaches at Ramakrishna Mission Vidyamandira, Belur Math .

 

Photo

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s