Swami Vivekananda on Gau-Raksha

Auhor: Dev

আমরা কি ভীষণ সময় বাশ করছি , গো ‘মাতাদের ‘ সুরক্ষার্থে ‘সন্তানদের ‘ প্রাণ রখ্যা দায় হয়েছে ! বছর দেড়েক আগে আমরা উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে তার ভয়াবহ শুরু দেখেছি, আখলাককে পিটিয়ে মারা হয় শুধুমাত্র সন্দেহের বসে যে তার ফ্রিজে গোমাংস ছিল. এ বছর প্রথমে রাজস্থানের আলবারে, পেহলা খান নামক এক ব্যক্তিকে একই ভাবে হত্যা করা হয়ে এবং  সংঘ -পরিবার ভুক্ত এক সাধ্বী বলেন হত্যাকারীদের কীর্তি শহীদ ভাগত সিংহের তুল্য। তারপর একই ঘটনা কাশ্মীর ও দিল্লির রাস্তায় ঘটতে দেখি। এই ভয়াবহ সময় আমার স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের একটা ঘটনা মনে পড়ছে।

নরেন্দ্রবাবু চলিয়া গেলে পর, গোরক্ষিণী সভার জনৈক এক প্রচারক স্বামীজীর সাথে দেখা করবার জন্য  উপস্থিত হইলেন। পুরা না হইলেও ইহার বেশভূষা অনেকটা সন্যাসীর মতো – মাথায় গেরুয়া রঙের পাগড়ি বাধা – দেখিলেই বুঝা যায় ইনি হিন্দুস্তানী। গোরক্ষা – প্রচারকের আগমন বার্তা পাইয়া স্বামীজী বাইরের ঘরে আসিলেন। প্রচারক স্বামীজিকে অভিবাদন কোরিয়া গোমাতার একখানি ছবি তাহাকে উপহার দিলেন। স্বামীজী উহা হাথে লইয়া নিকটবর্তী ওপর এক ব্যক্তির হাথে দিয়া তাহার সহিত নিম্ন লিখিত আলাপ করিয়াছিলেন।

স্বামীজী : আপনার সভার উদ্দেশ্য কি ?

প্রচারক : আমরা দেশের গোমাতাগণকে কসাইয়ের হাত থেকে রক্ষা কোরিয়া থাকি।  স্থানে স্থানে পিঞ্জরাপল স্থাপন করা হইয়াছে সেখানে রুগ্ন অকর্মন্য এবং কসাইয়ের হাত থেকে ক্রিত গোমাতাগণ প্রতিপালিত হয়।

স্বামীজী : এ অতি উত্তম কথা, আপনাদের আয়ের পন্থা কি ?

প্রচারক : দয়াপরবশ হইয়া আপনাদের ন্যায় মহাপুরুষ যাহা কিছু দেন তাহা দাঁড়ায় সভার এই কার্য নির্বাহীত হয়.

স্বামীজী : আপনাদের গচ্ছিত কত টাকা আছে ?

প্রচারক : মাড়োয়ারি বণিক সম্প্রদায়ে এই কাজে বিশেষ পৃষ্ঠ পোষক, তাহারা এই সৎ কার্যে বহু অর্থ দিয়াছেন।

স্বামীজী : মধ্য ভারতে এবার ভয়ানক দুর্ভিক্ষ হয়েছে।  ভারত গভর্নমেন্ট ৯ লক্ষ লোকের অনশনে মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ করেছেন , আপনার শোভা এই দুর্ভিক্ষ কালে কোনো সাহায্যদানের আয়োজন করেছে কি ?

প্রচারক : আমরা দুর্ভিক্ষণাদিতে সাহায্য করিনা , কেবল মাত্র গোমাতৃগণের রোক্কাকল্পেই এই শোভা স্থাপিত।

স্বামীজী: যে দূর্ভীককে আপনাদের জাতভাই লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যু মুখে পতিত হলো সামর্থ সত্ত্বেও আপনারা এই ভীষণ দুর্দিনে তাদিগকে অন্ন  দিয়ে সাহায্য করার প্রয়োজন মনে করেননি ?

প্রচারক: না; লোকের কর্ম ফলে, পাপে এই দুর্ভিক্ষ হইয়াছিল , যেমন কর্ম তেমনি ফল হইয়াছে।

প্রচারকের কথা শুনিয়া স্বামীজীর বিশাল নয়নপ্রান্তে যেন অগ্নিকণা স্ফুরিত হইতে লাগিল , মুখ আরক্তিম হইলো।  কিন্তু মনের ভাব চাপিয়া বলিলেন ,” যে শোভা সমিতি মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে না, নিজের ভাই অনশনে মরছে দেখেও তার প্রাণ রক্ষার জন্য এক মুষ্টি অন্য না দিয়ে পশু পাখি রক্ষার জন্য রাশি রাশি অন্য বিতরণ করে , তার জন্য আমার কিছু মাত্র সহানুভূতি নেই।  তা দ্বারা সমাজের বিশেষ কিছু উপকার হয়ে বলে আমার বিশেষ বিশ্বাস  নেই. কর্ম ফলে মানুষ মরেছে – এইরূপ কর্মের দোহাই দিলে জগতে কোনো বিষয়ের জন্য চেষ্টা চরিত্র করাটাই একেবারে বিফল  সাব্যস্ত হয়।  এই কাজ সম্বন্ধেও বলা যেতে পারে – গোমাতারা  আপন আপন কর্ম ফলে কসাইয়ের হাতে যাচ্ছেন ও মরছেন  , আপনাদের উহাতে কিছু করবার প্রয়োজন নেই। ”

প্রচারক একটু অপ্রতিভ হইয়া বললেন , ” হা আপনি যা বছেন তা সত্য, কিন্তু শাস্ত্র বলে গরু আমাদের মাতা !”

স্বামীজী হাসিতে হাসিতে বলিলেন, ” হা গরু আমাদের যে মা, তা আমি বিলক্ষন বুঝেছি – তা না হলে এমন সব কৃতি সন্তান আর কে প্রসব করবেন ?”…কথা শুনিয়া প্রচারক মহাশয় স্বামীজিকে অভিবাদনান্তে প্রস্থান করিলেন। তখন স্বামীজী আমাদিগকে বলিতে লাগিলেন,” কি কোথায় বললে! বলে কিনা কর্ম ফলে মানুষ মরছে , তাদের দোয়া করে কি হবে? দেশটা যে অধপাতে গেছে।, ইহাই তার চূড়ান্ত প্রমান।..মানুষ হয় মানুষের জন্য যার প্রাণ না কাঁদে তারা কি আবার মানুষ?”

আজ খবরের কাগজে চোখে পড়লো ‘গরুর আধার কার্ড, সিদ্ধান্ত জানাল কেন্দ্র। চোখের ছবি, খুরের ছাপ!’ – এখনও দেশের সব নাগরিকের আধার কার্ড তৈরি হয়নি। তার মধ্যেই দেশের আপামর গরুর জন্য আধার কার্ডের মতো ১১ সংখ্যার ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার তৈরির উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। সংবাদ সংস্থার খবর অনুসারে, সোমবার এই সংক্রান্ত প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।- খবরটা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো আজ যদি স্বামীজী থাকতেন তাহলে উনি এই ঘটনা গুলিকে কি ভাবে নিতেন? উদধৃত অংশটা পড়ে আমরা সকলেই ধারণা করতে পারি যে উনি খুশি হতেন না।  সংঘ – পরিবার  অনেক দিন ধরেই স্বামীজিকে ‘হিন্দু – ন্যাশনালিস্ট ‘ হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যদিও তাদের বিবেকানন্দ – সাহিত্যের খুব একটা জ্ঞান আছে বলে প্রমান পাইনা। কথা হচ্ছে আমরা, বাঙালিরা , যারা বিবেকানন্দের নাম গর্ভ বোধ করি, তারা কি স্বামীজীর দর্শন তুলে ধরবো – রক্ষা করবো, তার জন্ম স্থান বাংলাকে এই ধর্ম – হিংস্রতার হাত থেকে বাঁচাবো ? নাকি আমরাও তার আদর্শ ভুলে, ধর্মের ভেক ধারীদের ভাষণের উস্কানিতে গা ভাসাবো ?

Photo Courtesy

 

From : স্বামী শিষ্য সংবাদ – শরৎচন্দ্র চ্যাটার্জী ( স্বামীজীর শিষ্য )

2 thoughts on “Swami Vivekananda on Gau-Raksha

  1. Thanks for being an avid reader. Appreciate your comments. Please do subscribe and share it. Thanks.

    Like

  2. Chora na shone dhàrmer kahini; Janata jardan ekhon dharmer neshaye bund hoye achhe! Antoto bojhano gechhe j onyo dharmer dara amra Hindura akranto, atoeb, palta maar debar eito samay. Amra bhule gechhe Gujrat dangar bhoyabohota. Amader manyobar netara chan “birodhi dharmo shunyo” Bharat! Kono monishir kathai r korne probesh korbena. Shashastra pathei ashbe tader swapner Bharat! Bhoyaboho avijggatar mukhomukhi hote jachhi amra. Ekhono samay achhe atmashuddhir! Jago janagan jago!

    Liked by 1 person

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s