এবার বাংলা থেকে সাবাড় বাংলা

বিজেপি বলছে “এবার বাংলা।“ ক্ষমতায় এলে দেখবেন “সাবাড় বাংলা”। তার জন্যে যোগ্য লোকজনের ওদের অভাব নেই। বিশ্বাস হচ্ছে না তো? মনে হচ্ছে সারদা আর নারদা কান্ডের চেয়ে আর কত খারাপ হবে? তাহলে শুনুন। দিদি আর তাঁর ভায়েদের কান্ডগুলো ঘটাতে তো তবু ক্ষমতায় আসতে হয়েছিল। বিজেপি এখনই কত কান্ড ঘটিয়ে ফেলেছে একবার দেখুন

৬ই ডিসেম্বর ২০১৬, যখন আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা এটিএমে লাইন দিয়ে ক্লান্ত হচ্ছিলেন, সেইসময় বিজেপি নেতা মনীষী শর্মা ওরফে মনীশ যোশী (৪৪) কয়লা মাফিয়াদের সাথে ৩৩ লাখ টাকার নতুন নোট আর ৮৯ রাউন্ড গুলি নিয়ে মহানন্দে গাড়ি চড়ে সম্ভবত অস্ত্র কিনতে যাচ্ছিল। এই গুণধরটি ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে রানীগঞ্জ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ছিল। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার সময়ে এর সঙ্গে ছিল এমন ছজন যাদের বিরুদ্ধে খনী এলাকায় অপহরণ, তোলাবাজি ইত্যাদি ব্যবসা চালানোর অভিযোগ আছে। বিশ্বাস হচ্ছে না? এই দেখুন http://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/BJP-leader-arrested-along-with-coal-mafia-for-carrying-Rs-33-lakh/articleshow/55841592.cms

ডিমনেটাইজেশন বলতে মনে পড়ল, মোদিজির ঘোষণার কয়েকদিন আগে থেকে বিহার এবং বঙ্গ বিজেপি প্রচুর জমি কেনে। হঠাৎ কোথা থেকে এও অত টাকা আর দুম করে জমি কেনার দরকারই বা পড়ল কেন? ওরা মুখে কুলুপ এঁটে আছে। দেখুন

https://www.telegraphindia.com/1161206/jsp/bengal/story_123255.jsp#.WP30C0V97Dc

http://www.hindustantimes.com/india-news/jd-u-rjd-demand-probe-into-bjp-s-land-purchase-spree-in-bihar/story-iBMuWygvKWK4qpToPkJfMK.html

অবশ্য এ আর এমন কী? গতবছর অগাস্ট মাসে শোনা যায় দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ এস এস আলুওয়ালিয়া নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এর কাছে নারায়ণী সেনার দাবিকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। কারা এই নারায়ণী সেনা? না একটা জঙ্গি দল যারা কোচবিহারকে আলাদা রাজ্য করতে চায়। বুঝলেন তো? বিজেপি “অখন্ড ভারত” চায় কিন্তু “অখন্ড বাংলা” চায় না। দেখুন http://www.financialexpress.com/india-news/cooch-behar-statehood-militia-west-bengal-narayani-sena-bjp/355149/

তবে বাংলা যেমনই হোক, বিজেপি রাজত্বে বাংলার শিশুদের কিন্তু খুব সাবধানে থাকতে হবে, একেবারে মায়ের পেটে থাকার সময় থেকে। নদীয়া জেলার ধুবুলিয়ার বিজেপি পঞ্চায়েত প্রধান পলাশ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি কীর্তনের আসরে জোরে মাইক চালানো নিয়ে প্রতিবাদ করায় যে মারামারি লাগে তাতে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পেটে লাথি কষান, বাচ্চাটি নষ্ট হয়। এই যে http://www.news18.com/news/india/pregnant-woman-kicked-in-stomach-loses-baby-bjp-leader-held-1352263.html

একবার জন্মে গেলে তো আরো ভয় — পাচার হয়ে যাওয়ার ভয়। বিধাননগর পৌরসভার নির্বাচনে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী ডাক্তার দিলীপ ঘোষ গত ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হন আন্তঃরাজ্য শিশু পাচার চক্রের সাথে জড়িত সন্দেহে। বিজেপি অমনি এঁকে বহিষ্কার করে। নিজেই দেখুন http://www.catchnews.com/india-news/bjp-leader-arrested-in-connection-with-bengal-child-trafficking-racket-1480514731.html

কিন্তু ঠগ বাছতে যে গাঁ উজাড়। সি আই ডি তদন্তে এযাবৎ ধরা পড়া সবচেয়ে বড় শিশু পাচারচক্রে জড়িত বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রী জুহি চৌধুরী। জুহির বাবা রবীন্দ্রনারায়ণ দীর্ঘকাল আর এস এস সদস্য এবং উত্তরবঙ্গে বিজেপির প্রথম দিককার সদস্যদের একজন। একসময় নিজের জেলার পার্টি সম্পাদক এবং রাজ্য কমিটির সদস্যও ছিলেন। মহিলা মোর্চার নেত্রী হিসাবে জুহির নাম সুপারিশ করেছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপবাবু নিজে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ ব্যানার্জি। এপর্যন্ত তদন্তে আরো অনেক বিজেপি নেতার নাম উঠে এসেছে। জুহির হয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা ইত্যাদির জন্য দিল্লীতে তদবির করেছিলেন নাকি রূপা গাঙ্গুলি এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়। নীচে দেখুন

http://www.newindianexpress.com/nation/2017/mar/03/jalpaiguri-child-trafficking-bengal-cid-to-summon-bjp-mp-for-probe-1577194.html

http://indianexpress.com/article/india/jalpaiguri-child-trafficking-father-daughter-and-the-party-4553437/

http://www.thehindu.com/news/cities/kolkata/Child-trafficking-case-Fissures-in-Bengal-BJP/article17362683.ece

লোক ঠকানো অবশ্য এঁদের কাছে জলভাত। রাজ্য বিজেপির সহ সম্পাদক এবং মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার যেমন। এবছর জানুয়ারি মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের থেকে প্রায় আট লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে। মামলা চলছে। এই যে http://www.hindustantimes.com/india-news/bengal-bjp-vice-president-jay-prakash-majumder-arrested-for-taking-money/story-55e1wpWVSOS96PRsbThb1H.html

তারপর ধরুন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। উনি নাকি ঝাড়গ্রাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পলিটেকনিক কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত। বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত রাজ্য কমিটির প্রাক্তন সদস্য অশোক সরকার তথ্যের অধিকার আইনে (Right to Information Act) জানতে চেয়েছিলেন সত্যিই দিলীপ ঘোষ ওটা পাশ করেছেন কিনা। উত্তর এসেছে “না”। অশোকবাবু এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন আইন অনুযায়ী দিলীপবাবুর বিধায়ক পদ খারিজ করা হোক। দেখুন http://indianexpress.com/article/cities/kolkata/west-bengal-dilip-ghosh-lied-about-educational-qualifications-says-ex-bjp-leader-lodges-complaint-with-ec-4611122/

কী বুঝলেন? মন্ত্রীসভাটা জব্বর হবে, তাই না?

 

Author : Anonymous

Photo Courtesy

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s